Metacognitive Thinking

পরিচিত একজন, যার সাথে কালেভদ্রে কথা হয় কি হয়না, হঠাৎ মেসেজ দিলো।
আমি তখন ক্লাসে। প্রেজেন্টেশন চলছে। নিজের টার্নের অপেক্ষায় বসে আছি, ভীষণ অস্থির আর উদ্বিগ্ন।
ঠিক ওই সময় ফোনে চোখ পড়তেই দেখি “আমার একটা জিনিস দ্রুত প্রয়োজন। তুমি আজই মার্কেটে গিয়ে দাম জেনে এসে আমাকে জানাবে। আমি তোমাকে কিনতে দেবো।”

আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম।
একটা মানুষ কি এতটুকু জিজ্ঞেস করতে পারে না আমি কোথায় আছি? কি করছি? আমি আদৌ ফ্রি আছি কিনা?
নাকি এগুলো এখন আর প্রয়োজনীয় মনে হয় না?
এরকম একটা মেসেজই পুরো দিনের মুড নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।
কিছু কিছু মানুষ মনে করে, বয়সে ছোট মানেই যখন তখন যা ইচ্ছা বলা যায়, সে শুনে নিবে, করে দিবে।
কিন্তু খুব তিক্ত সত্যি হলো আমি এই দুনিয়ার কারোর কেনা গোলাম না। না জিজ্ঞেস করে, না বুঝে, অর্ডার দিয়ে দিলেই যে আমি সেটা করে ফেলবো এই ধারণাটা সত্যিই অস্বস্তিকর।
যদিও এরকম অভিজ্ঞতা নতুন না আমার জীবনে।

জীবনে কখনো কাওকে না জানিয়ে তার বাসায় যাইনি।
একবার আব্বু-আম্মুকে সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে না জানিয়ে বাসায় গিয়েছিলাম। উল্টো নিজেই খুব ভোগান্তিতে পড়েছিলাম। সেদিন খুব ভালো একটা শিক্ষা পেয়েছিলাম,
মানুষের প্রাইভেসি আর স্পেসকে সম্মান করা খুব জরুরি। আমি না জানিয়ে যার বাসায় যেতে চাচ্ছি, তার ব্যক্তিগত কোনো প্ল্যান ও থাকতে পারে। সেরকম পরিস্থিতে আমার উপস্থিতি তার জন্য অনেক বিব্রতকর।
তারপর থেকে আর কখনো না জানিয়ে কোথাও যাই না।
কারণ সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে কাউকে অপ্রস্তুত করে ফেলা এটা ভালো লাগার কিছু না।

আরেকটা ঘটনা আছে, যেটা এখনো ভাবলে খারাপ লাগে। আমার শ্বাসকষ্ট হয়। হঠাৎ দম উঠে যায়। তাই কাছে সবসময় পানি রাখার চেষ্টা করি। গরমের সময় তো পানি একদম ম্যান্ডেটরি একটা জিনিস। ভারী ব্যাগে আধা লিটারের একটা বোতল ক্যারি করাও কিন্তু struggling. কোচিংয়ে একজন ক্লাসমেট ছিল, প্রতিদিন আমাকে দেখলেই পানি খেতে চাইতো। আমিও দিতাম। মনে করতাম, পানি খাওয়ানো অনেক সওয়াবের কাজ। কিন্তু আমি তার প্রতি দয়াশীল হলেও তার আমার প্রতি কোনো দয়া ছিলোনা। সে পুরো বোতলটাই শেষ করে খালি বোতলটা ফেরত দিতো। আমি চুপ করে থাকতাম আর অবাক হতাম
এতটুকু কি বোঝা যায় না, অন্যজনেরও পানি দরকার থাকতে পারে? দরকার ছাড়া কেও কেন পানির বোতল ক্যারি করবে?

এগুলো ছোট ছোট ঘটনা।
কিন্তু এই ছোট ঘটনাগুলোই অনেক বড় কিছু প্রশ্ন তুলে দেয়। আমরা কি আসলেই ভাবি, আমরা কি করছি?
আমাদের আচরণ অন্য কারো ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে?

মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা ধীরে ধীরে আমাদের meta cognitive thinking হারিয়ে ফেলছি। নিজের কাজ, নিজের আচরণ একটু থেমে ভেবে দেখার অভ্যাসটা আর থাকছে না। এত বই পড়ি, এত কিছু শিখি, এত ননফর্মাল প্রোগ্রাম করি কিন্তু সহানুভূতিটা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আসলে খুব বেশি কিছু না। কাওকে কিছু বলার আগে একটু ভাবা,
আর অন্যের জায়গায় নিজেকে একবার বসিয়ে দেখা, এর চেয়ে বড় শিক্ষা আর কি কিছু হতে পারে?

Share:

More Posts

আমার জীবনবৃত্তান্ত

এই জীবন যেন হাওয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া একখানি নৌকা,না তার দাঁড়, না মাঝি, না কোনো ঠিকানার টান।আমি সেই নৌকার যাত্রী, উড়নচণ্ডী, অনিয়মের আপনজন। বাড়ি নাই,

Positioning Yourself in a Crowded Market

Irure magnis lacinia, quia consequat varius ad tristique dis facilisi hymenaeos voluptatum vero occaecat ipsum, ipsum explicabo aliquid labore habitasse, pede voluptatibus turpis soluta! Quibusdam

The Art of Saying Less and Meaning More

Veniam class. Earum nobis! Ultricies, vulputate, cillum ipsam nascetur aliquam, modi ridiculus? Cras blanditiis cum mattis augue aliquam! Nostrud? Lectus. Inceptos cillum. Lectus praesentium amet,

Why Authority Is Built One Article at a Time

Error iaculis eros commodo exercitation penatibus cum sem, aperiam cras, elit lobortis mollis eum aperiam venenatis fugit sapiente? Magnam ad culpa suspendisse! Sollicitudin lorem? Architecto

Send Us A Message