এই জীবন যেন হাওয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া একখানি নৌকা,
না তার দাঁড়, না মাঝি, না কোনো ঠিকানার টান।
আমি সেই নৌকার যাত্রী, উড়নচণ্ডী, অনিয়মের আপনজন।
বাড়ি নাই, গাড়ি নাই, জমিজমার গর্ব নাই,
চাকরির বোঝা কাঁধে চাপে নাই কোনোদিন।
তবু দেখো, অদৃশ্য কারও মমতার স্পর্শে
তিন বেলা ভাত জোটে, গা ঢাকা দেয় নিশ্চিন্ত দিন।
এক হাড়ি যখন শূন্যতার দিকে হা করে চায়,
অপর হাড়ি তখন হঠাৎ ভরে ওঠে রহস্যের দানে,
এ যেন সংসারের নিয়ম নয়, অলৌকিক অনুগ্রহ,
নীরব কোনো করুণার ছায়া লেগে আছে প্রাণে।
জীবন নিয়ে ভাবনা? সে আবার কী বস্তু!
আগামীর চিন্তা আমার কাছে বিলাসিতা মাত্র।
খাই, দাই, ঘুমাই, এই তো জীবনের সহজ ছন্দ,
কোনো হিসাব নেই, নেই কোনো গাণিতিক যন্ত্রণা।
পড়াশোনা? আহা, সে এক বিরক্তির নাম,
তবু সমাজের ভয়ে, নিয়মের টানে
মাঝে মাঝে বই খুলে বসি অনিচ্ছার আবরণে,
যেন কর্তব্যের কাছে ক্ষণিকের আত্মসমর্পণ।
সম্বলহীন বলে কি আপদ কম আসে?
হয়তো তাই, যার কিছুই নেই, তার হারাবার ভয়ও নেই।
এই শূন্যতার মাঝেই লুকানো এক অদ্ভুত স্বস্তি,
এই অনিশ্চয়তাই যেন আমার নিশ্চিত ঠিকানা।
তাই তো দিব্যি বেঁচে আছি,
না কোনো দম্ভ, না কোনো দুঃখের ভার,
শুধু ভাসমান এক জীবন,
আল্লাহর অদৃশ্য করুণার উপর নির্ভর করে থাকা এক শান্ত আত্মা।
